গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ আসবেই ( তিনটি বিপদ সম্পর্কে জানুন)
আল্লাহতালা জেনাকারী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। এটি খুবই জঘন্য একটি পাপ কাজ।
আল্লাহতালা বলেন, গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ আসবেই, যা তোমরা পৃথিবীতেই পাবে।
কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই সেই তিনটি শাস্তি বা বিপদ সম্পর্কে জানি না। তাই আসুন
এই পোস্টটির মাধ্যমে জেনে নিন।
যেহেতু জেনাকারী ব্যক্তিরা খুবই জঘন্য এবং তওবা ছাড়া কখনোই মাফ হয় না। সেহেতু
অবশ্যই এই জেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে অনেক মানুষেরাই জানতে চান জেনাকারী কি
জান্নাতে যাবে কিনা? এ সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর এই আর্টিকেলে রয়েছে। তাই
আর্টিকেলটি না টেনে মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পেজ সূচীপত্র
যেনা কি - গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ আসবেই
যেনা বা জেনা হলো বিবাহের সম্পর্ক ছাড়া যদি কোন ব্যক্তি পুরুষ হোক অথবা মহিলা
হোক তাদের মধ্যে যৌনক্রিয়া তৈরি হয় সেটিকে মূলত যেনা বা জেনা বলা হয়।
অর্থাৎ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক জেনা হল বিবাহ আবদ্ধ হওয়ার আগে যদি কোন অনৈতিক বা
অবৈধ যৌন সম্পর্ক করা হয় তাহলে সেটাকে যেনা বা জেনা বলা হয়। যেমনঃ- পরকীয়া,
ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তি, ব্যভিচার, অজাচার ইত্যাদি।
গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ আসবেই
যদি কোন ব্যক্তি গোপনে যেনা করে তাহলে তার অবশ্যই গুনাহ হবে। কিন্তু এই গুনাহও
আল্লাহতালার কাছে দুহাত পেতে মাফ চাইলে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই মাফ করে দিবেন।
পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহতালা বলেছেন যদি কোন ব্যক্তি নিজের অজান্তে অথবা জেনে
গোপনে যেনা করে।
তাহলে এই পৃথিবীতেই তার তিনটি শাস্তি মিলবে। যারা গোপনে জেনা করে সেই সকল মানুষ
এবং জানোয়ারের মধ্যে পার্থক্য থাকে না। কেননা জেনাকারীদের কোন লজ্জা থাকে না।
তারা যৌন পিপাসা মিলানোর জন্য যেকোনো মানবিক লজ্জার হারিয়ে ফেলে। ফলে বৈধ না
অবৈধ কাজ করছে সেদিকে লক্ষ্য রাখেনা।
গোপনে যেনা করা বিষয়গুলো নিয়ে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ) বর্ণনা করেন,
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে যদি কোন ব্যক্তি যেন না
কাজে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে অবশ্যই তার দুনিয়াতে ভয়ংকর তিনটি শাস্তি বা বিপদের
সম্মুখীন হবে। তাহলে চলুন সেই তিনটি শাস্তি বা বিপদ কি কি তা আমরা সকলেই জেনে
নেই।
নাম্বার ১ঃ যদি কোন ব্যক্তি গোপনে যেনা করে
তাহলে সেই ব্যক্তি মহামারী রোগে আক্রান্ত হবে। যেমন কলেরা, ডায়রিয়া ইত্যাদি। আর
এইগুলো রোগ থেকে আরও অনেক রোগ বাসা বাঁধবে। সর্বশেষ সেই ব্যক্তির চূড়ান্ত একটি
রোগে আক্রান্ত হবে যার ফলে তার মৃত্যু হবে। মৃত্যুর সময় অনেক কষ্ট, যন্ত্রণা ও
শাস্তি পেয়ে মরতে হবে।
নাম্বার ২ঃ যে ব্যক্তি গোপনে জেনা করবে সে
ব্যক্তি অনেক প্রভাবশালী হলেও আস্তে আস্তে তার দারিদ্র দেখা দিবে। এতটাই দারিদ্র
দেখা দিবে ফলে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। একটি হাদিসে বলা হয়েছে যে সেই
ব্যক্তির জীবনের শেষ পর্যায়ে পর্যন্ত এরকম পরিণতি হবে এবং গোপনে জেনাকারী
ব্যক্তি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষার জন্য খুঁজতে খুঁজতে তাকে মরতে হবে।
নাম্বার ৩ঃ যে ব্যক্তি গোপনে জেনা করবে সেই
ব্যক্তির শরীরে আল্লাহতালা এমন একটি রোগ দিবে সেই রোগ তার বংশের মধ্যে অন্য কারো
নেই। এমন একটি রোগ দেবে যে রোগ থেকে আস্তে আস্তে অনেক আক্রান্ত হবে আর এই
আক্রান্তের ফলে সেই ব্যক্তি কোন ডাক্তারের কাছে রোগের চিকিৎসা না পেয়ে মারা
যাবে।
তাই প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা আপনারা অবশ্যই কখনোই ধৈর্য হারাবেন না। আপনার
জন্য আল্লাহ তাহালা উত্তম জীবনসঙ্গী রেখেছেন। তাই এই ভুলগুলো করা কখনোই চলবে না।
সব সময় আল্লাহ তায়ালা ইবাদত করতে হবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে।
পাশাপাশি দুহাত তুলে আল্লাহর সাথে দোয়ার মাধ্যমে নিজের মনের আশা গুলো চাইতে হবে।
ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া অবশ্যই কবুল করবেন। আশা করি গোপনে যেনা
করলে তিনটি বিপদ আসবেই, এই বিষয়টি সঠিকভাবে জানতে পেরেছেন।
যেনাকারী কি জান্নাতে যাবে?
অনেকেই জানতে চেয়েছেন যেনাকারী কি জান্নাতে যাবে? এই বিষয়টি সম্পর্কে। প্রিয়
মুসলমান ভাই ও বোনেরা আপনাদের মধ্যে যারা গোপনে জেনা করে তারা জান্নাতে যাবে কিনা
সেটা সম্পূর্ণ আল্লাহতালা সঠিক বলতে পারবেন।
তার কারণ হলো আমাদের সৃষ্টিকর্তা হল আল্লাহ তায়ালা তিনি যদি জেনাকারী ব্যক্তিকে
ক্ষমা করেন তাহলেই তিনি জান্নাতে যেতে পারবেন। তবে যদি কোন জেনাকারী ব্যক্তি
অন্তরের অন্তরস্থল থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে কান্না করে ক্ষমা চাই আর যদি কোনদিন
এই ভুল না করে তাহলে জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে যদি সেই জেনাকারের দোয়া বা তওবা আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল না হয় তাহলে
জাহান্নামের যাওয়ার উপযুক্ত হবে। তাই এই বিষয়টি একদম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কখনোই
দেওয়া সম্ভব নয়।
এটি সম্পূর্ণ আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করবেন। আশা করি গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ
আসবেই, এ বিষয়টি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি যেনাকারী কি জান্নাতে যাবে? এ বিষয়টিও
বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয়?
জেনা হল কাবিরা গুনাহ।। আল্লাহ আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বারবার এই জঘন্য কাজ থেকে
বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যেনা খুবই ভয়াবহ একটি গুনাহ। যেনা বিভিন্ন
প্রকার হতে পারে। যেমন নিজের স্ত্রী বা দাসী ব্যথিত অন্য কোন মহিলার সাথে যৌন
চাহিদা করা কে জেনা বলা হয়।
এছাড়াও চোখের জেনা মুখের জেনা জিব্বার জেনা কানের জেনা হাতের জেনা ইত্যাদি
জেনারেল হয়েছে। আর এই জেনাকারীর শাস্তি হলোঃ- যারা অবিবাহিত ব্যাভিচারী রয়েছে
তাদের ১০০ বেত্রাঘাত এবং বিবাহিতের শাস্তি হলো রজম করা অর্থাৎ কোমর পর্যন্ত পুঁতে
রেখে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা।
প্রতিনিয়ত ইসলামে এই শাস্তি কেবলমাত্র কার্যকারী। যেহেতু জেনা করা কাবিরা গুনাহ
সমান সেহেতু এখানে তওবা ব্যতীত কখনোই গুনাহ মাফ হবে না। তাই আল্লাহর কাছে ভুল করে
কিংবা নিজের ইচ্ছাকৃতভাবে গোপনে প্রকাশে কোন জেনা করলে অবশ্যই সাথে সাথে আল্লাহ
তাআলার কাছে তওবা চাইতে হবে।
আল্লাহ তা'আলা অনেক দয়ালু তাই প্রত্যেকটা মুসলিম ব্যক্তিদের দোয়া আল্লাহ
তায়ালা কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ। আপনারা কখনোই জেনা কাজে লিপ্ত হবেন না। এতে করে
অনেক বড় ধরনের পৃথিবীতেই পেয়ে যাবেন।
গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ আসবেই এটি পূর্বে পড়লে আপনি অবশ্যই বুঝতে পারবেন
কতটা ভয়াবহ বিপদ রয়েছে। তাই আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে বোঝার তৌফিক দান করুন,
আমিন।
যিনা মাফের দোয়া
যিনা, খুবই ভয়াবহ একটি পাপ কাজ। যার থেকে তওবা ছাড়া কোন নিস্তার নেই। আল্লাহ
তাআলা বলেছেন যিনা খুবই জঘন্য একটি অপরাধ। যা আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না। তাই
তোমরা সকলেই যিনা মাফের দোয়া করে আমার কাছ থেকে মুক্ত থাকো। তাহলে প্রিয় মুসলিম
ভাই ও বোনেরা আসুন আমরা সকলেই আমাদের রবের দোয়া জেনে যিনা থেকে বিরত থাকি।
১) বাংলা উচ্চারণ-- রব্বি-ইন্নি-জলামতু-নাফসি-ফাগফিরলি
২) বাংলা অর্থ-- হে আমার আল্লাহ, নিশ্চয় আমি-আমার নফ্সের-প্রতি যুল্ম করেছি।
সুতরাং আপনি-আমাকে ক্ষমা করে দিন। (সূরা আল ক্বসাস। আয়াত নাম্বারঃ ১৬)
১) বাংলা উচ্চারণ-- রব্বিগফির-ওয়ারহাম-ওয়া-আনতা-খাইরুর-রহিমিন।
২) বাংলা অর্থ-- হে আমাদের আল্লাহ তাআলা! আপনি আমাদের ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং
আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা আল মুমিনুন, আয়াত নাম্বারঃ- ১১৮)
১) বাংলা উচ্চারণ-- আল্লাহুম্মাগ-ফিরলি-জিদ্দি-ওয়া-হাজলি।
২) বাংলা অর্থ-- হে আমার আল্লাহ! আমার ঐ সকল-গুনাহও মাফ করুন। যা আমার উদ্দেশ্য
ছিল এবং ঐ গুনাহও, যা উদ্দেশ্য ছিল না।
উপরে উল্লেখিত যে সকল দোয়া গুলো দেয়া হয়েছে আপনারা চাইলে এই দোয়াগুলোর মধ্যে
যেকোনো একটি দোয়া পড়লেই হবে। এই দোয়াগুলো পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে আল্লাহর কাছে যে
কোন পাপের তওবা করা যাবে। আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই আপনার দোয়াকে কবুল করে নিবেন
ইনশাআল্লাহ। (আল্লাহ ভরসা)
অনেক সময় আত্মীয়-স্বজন, পরিবার, বন্ধু বান্ধব, এদের সাথে কোন চিন্তাভাবনা ছাড়া
এমনিতেই হাসি ঠাট্টা বা মজার বসে অনেক গুনাহ হয়ে যায়। বিশেষ করে মুখের গুনাহটা
অনেক বেশি হয়। তাই এই সকল গুনাহর জন্য এবং জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য
নিচের দেওয়া দোয়াটি পড়ে নিবেন।
১) বাংলা উচ্চারণঃ-
রব্বানা-ইন্নান-আমান্না-ফাগফিরলানা-জুনুবানা-ওয়াক্বিনা-আজাবান্নার।
২) বাংলা অর্থঃ- হে আমাদের রব/আল্লাহ! নিশ্চয়-আমরা-ঈমান-এনেছি।
অতএব-আমাদের-গুনাহসমূহ-ক্ষমা-করুন এবং আমাদেরকে-জাহান্নামের-আজাব-হতে-রক্ষা-করুন।
(আমিন) সূরা আলি ইমরান ৩। আয়াত নংঃ- ১৬.
চোখের যিনা মাফের দোয়া
শরীরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেনা চোখের। কারণ আল্লাহ তা'আলা আমাদের যে চক্ষু দান
করেছেন সেটি দিয়ে পৃথিবীর আলো বাতাস সহ আরো জীবজন্তু, মানুষ, প্রাকৃতিক পরিবেশ
দেখে থাকি। তবে কখন চোখের জেনা হয়ে যায় ভাবাই যায় না।
বিশেষ করে চলাফেরার পথে বিভিন্ন অশ্লীল বিষয়ে আমাদের চোখে পড়ে যার কারণে বড়
ধরনের পাপ কাজ হয়। বর্তমানে প্রযুক্তির অপব্যবহার করার ফলে আজ মানুষ নানা ধরনের
অশ্লীল অপরাধ অন্যায় এগুলোর মধ্যে নিয়োজিত হচ্ছে।
ইমাম কুরতবী রহ. বলেন যে চোখ হলো অন্তরের কিছু প্রবেশের বড় একটি দরজা। আর এই
চোখের কারণে অনেক মানুষের বিভিন্ন জিনা হয়ে যায়। তাই সবসময়ই আমাদের চোখকে
সতর্ক রাখতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা ও নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিষিদ্ধ বস্তু ও
ফিতনার আশঙ্কা এমন যে সকল বস্তুগুলো রয়েছে সেগুলোর দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকতে
হবে। এছাড়াও ইসলামের অবৈধ জিনিসের দিকে তাকানো মুসলমানদের হারাম।
তাই যদি কোন ব্যক্তি ভুলবশত বা যেকোনো কারণে চোখের জেনা করে তাহলে অবশ্যই তাকে
আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। আর সে কারণে চোখের যিনা মাফের দোয়া
সম্পর্কে আমাদের সকলকেই জানতে হবে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম অশ্লীলতা ও মনের খারাপ আসক্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এক
সাহাবীকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন।
দোয়াটি হলঃ-
১) বাংলা উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা-ইন্নি-আউজুবিকা-মিন-শাররি-সাময়ি,
ওয়ামিন-বাচারি-ওয়ামিন-শাররি-লিসানি-ওয়ামিন-শাররি-ক্বালবি-ওয়ামিন-শাররি-মানিয়্যি।
২) বাংলা অর্থঃ হে আমাদের রব! আমি আপনার কাছে কানে মন্দ কথা শোনা থেকে আশ্রয় চাই।
চোখ দিয়ে যা কিছু মন্দ দেখি সেটি থেকে আশ্রয় চাই। জিহ্বা দিয়ে যা কিছু মন্দ
কথা বলি সেটি থেকে আশ্রয় চাই। অন্তরের খারাপ চিন্তা-ভাবনা থেকে আশ্রয় চাই। দেহের
কামনা-বাসনার খারাপ চিন্তা থেকেও আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ,
২০/১৪৮৪)
এছাড়াও একটি হাদিসে আরও একটি দোয়ার কথা এসেছে। দোয়াটি হলঃ-
১) বাংলা উচ্চারণঃ
আল্লাহুম্মা-ইন্নি-আউজুবিকা-মিন-মুনকারাতিল-আখলাক্বি-ওয়াল-আ’মালি-ওয়াল আহওয়ায়ি।
২) বাংলা অর্থঃ হে আমার আল্লাহ! আমি নিশ্চয়ই আপনার কাছে খারাপ চরিত্র এবং অন্যায়
কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি, ১৯/১৪৮৪)
সম্মানিত মুসলমান ভাই ও বোনেরা আপনারা সকলেই উপরে উল্লেখিত দোয়াগুলো পড়বেন। এতে
করে আপনাদের সকলের চোখের জেনা মাফ হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা আপনাদের সকলকে এই
দোয়াগুলো পড়ার এবং বোঝার ও দোয়ার উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। (আমিন)
খারাপ চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া আরবি
যদি কখনো খারাপ চিন্তা মনের মধ্যে আসে তাহলে মনে মনে উচ্চারণঃ
আল্লাহুম্মা-ইন্নি-আউজুবিকা মিনাল-হাম্মি ওয়াল-হুজনি, ওয়া আউজুবিকা-মিনাল
আজজি-ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা- মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা- মিন
গলাবাতিদ- দাইনি ওয়া- কহরির রিজাল।
বাংলা অর্থঃ- হে আমাদের আল্লাহ! আমি আপনার কাছে খারাপ চিন্তা, দুশ্চিন্তা ও
অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার কাছে অলসতা অক্ষমতা ভীরুতা ও ও কার্পণ্য থেকে
আশ্রয় চাই। এছাড়াও ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল থেকেও আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই।
যদি আপনাদের খারাপ চিন্তা বা অন্য কোন মন মানসিকতা হয় অথবা অশ্রীরতা অলসতা
ইত্যাদি হয় তাহলে উপরে দেওয়াটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে
আপনার খারাপ চিন্তা, দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, ভীরুতা, ঋণের বোঝা ইত্যাদি দূর হয়ে
যাবে।
শেষ কথা -- গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ আসবেই
প্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা আপনারা সকলেই আশা করি গোপনে যেন করলে তিনটি বিপদ
আসবেই এ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এছাড়াও এই পোস্টটি থেকে
যেনাকারী কি জান্নাতে যাবে? এই বিষয়টিও সঠিকভাবে জানতে পেরেছেন। তাই এই
বিষয়গুলো জেনে অবশ্যই গোপনে জেনা করা থেকে বিরত থাকবেন এবং আল্লাহর এবাদত করবেন।
এখানে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url